সাধারণত বংশধারার নিয়ন্ত্রণকারী একককে জিন বলা হয়। আধুনিক ধারণা অনুযায়ী, DNA-এর দুই সূত্রের নির্দিষ্ট যে অংশ একটি পলিপেপটাইড উৎপাদনের সংকেত বহন করে সে অংশটিকে জিন বলে। মেন্ডেলের (Mendel) পরীক্ষা থেকে জিনের ধারণার সূত্রপাত হয়। মেন্ডেল বলেন, বিভিন্ন জোড়া চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন ফ্যাক্টর দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। এ ফ্যাক্টরকে পরবর্তীতে জিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে Johannsen বংশধারার নিয়ন্ত্রক বস্তুকে Gene নাম দেন। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে Sutton ও Boveri বলেন যে বংশধারার বাহক ফ্যাক্টরগুলো (জিনগুলো) ক্রোমোজমে থাকে। তাদের মতবাদ বংশধারার ক্রোমোজমীয় মতবাদ (Chromosomal theory of heredity) নামে পরিচিত। ডিপ্লয়েড কোষে ক্রোমোজমগুলো সবসময় জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে। এদের হোমোলগাস বা সমসংস্থ ক্রোমোজম বলে। সুতরাং জিনগুলোও সবসময় জোড়ায় জোড়ায় থাকে এবং ক্রোমোজমের নির্দিষ্ট স্থানে থাকে। একই জোড়ার দুটো জিন একই রকম বা একটি অন্যটি থেকে কিছুটা আলাদা হয়। হোমোলগাস ক্রোমোজমের একই স্থানে অবস্থিত দুটি জিন কোনো বৈশিষ্ট্যের উপর আলাদা প্রভাব বিস্তার করে। Bateson ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে এগুলোকে অ্যালেলোমর্ফ (allelomorph) বা অ্যালীল (allele) নামকরণ করেন।
যে সব বৈশিষ্ট্য বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয় তার প্রত্যেকটি আলাদা জিন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। বিভিন্ন জীবে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে; যেমন, পেঁয়াজের ক্রোমোজোম সংখ্যা 2n = 16, ড্রসোফিলা মাছিতে 2n = 8 এবং মানুষে 2n = 46। কিন্তু একটি জীবে অনেক বৈশিষ্ট্য থাকে। সুতরাং একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর ক্রোমোজোম সংখ্যা তার জিনের সংখ্যার চেয়ে অনেক কম হয়। তাই বলা যায় যে একটি ক্রোমোজোমে অনেক জিন থাকে।
জিনের কাজ : জীবদেহে জিনের ভূমিকা অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ।
- জিন জীবদেহে যাবতীয় বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের (ফিনোটাইপ) প্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- জিন জীবের সাংগঠনিক এবং বিপাকীয় বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রোটিন, এনজাইম অথবা হরমোন সংশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
- জীবদেহের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রনকারী জিনগুলো বংশগতির একক হিসেবে বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়।
- জিন প্রজাতি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের সংরক্ষণকে নিশ্চিত করে।
- DNA-স্থিত জিনগুলো ট্রান্সক্রিপশনকে নিয়ন্ত্রিত করে জীবকোষ তথা জীবদেহে প্রোটিন সংশ্লেষণের হারকেও নিয়ন্ত্রিত করে।