বায়ুমণ্ডল কি? কী রয়েছে এ বায়ুমণ্ডলে?

Shimul Hossain
0

ভূপৃষ্ঠের চারপাশ ঘিরে যে বায়ুর স্তর রয়েছে একেই আমরা বলে থাকি ‘বায়ুমণ্ডল’। প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পুরুত্বের এ আবরণ আনুমানিক ৩০/৩৫ কোটি বছর আগে এ সজীব পৃথিবীর প্রাণময় পরিবেশের সৃষ্টি ঘটিয়েছে। তবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশের অবস্থানই হলো ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব ও চাপ ব্যাপকভাবে কমতে থাকে।

কী রয়েছে এ বায়ুমণ্ডলে?
এতে আছে একাধিক গ্যাসের একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ। এর মধ্যে প্রধান দুটি গ্যাস হচ্ছে– জীবজগতের শ্বসনক্রিয়ার অপরিহার্য অক্সিজেন এবং দহন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন। এ দুটি গ্যাস আয়তনিকভাবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৯৯ ভাগ গঠন করে। এর বাইরে রয়েছে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস। এসব ছাড়াও রয়েছে কিছু নিস্ক্রিয় গ্যাস ও জলীয় বাষ্প। বায়ুমণ্ডলের একটি সামগ্রিক আয়তনিক সংযুক্তি হলো–
নাইট্রোজেন (N2) – ৭৮.০৯%
অক্সিজেন (O2) – ২০.৭১%
কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) – ০.০৩%
আরগন – ০.০৮%
অন্যান্য (হিলিয়াম, নিয়ন, ক্রিপটন, জেনন, মিথেন, ওযোন ও জলীয় বাষ্প) – ০.৩৭%
বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাস, জলীয়বাষ্প এবং জৈব-অজৈব কণাগুলোকে একসাথে অ্যারোসল বলে। অ্যারোসলে ধুলিকণা, লবন কণিকা, পলেন, কয়লার গুড়া ও ধোঁয়া, আগ্নেয়গিরির ছাই উল্কা ভষ্ম প্রভৃতি থাকে। এ কণিকাগুলো সূর্যরশ্মি থেকে তাপ শোষণ করে বায়ুকে উত্তপ্ত করে। এছাড়া এ কণিকাগুলোকে আশ্রয় করেই জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয় এবং বর্ষণ ঘটায়। আবার ভাসমান কণাগুলো সৌর আলোর বিকিরণকে বিক্ষিপ্ত করে যাতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় দৃষ্টি নন্দন রং দেখা যায়। এ আলো বিকিরণ ও প্রতিফলনের কারণে আকাশে নীল রংয়ের সৃষ্টি হয়।

বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব/ভূমিকা
বায়ুমণ্ডলের বিভিন্নস্তরের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন -

  • আমাদের বেঁচে থাকার জন্য বায়ুমণ্ডল অপরিহার্য। বায়ুমণ্ডল ছাড়া আমাদের শ্বাসকার্য চলে না।
  • এছাড়া বায়ুমণ্ডলের ট্রপােমণ্ডলে তাপমাত্রার পরিবর্তন ও বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। ফলে মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, শিশির, তুষার, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি ঘটে। অর্থাৎ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়। সুতরাং একথা বলা যায় যে, বায়ুমণ্ডল না থাকলে আবহাওয়া-জলাবায়ুরও সৃষ্টি হতােনা, ফলে বৃষ্টিও পড়তাে না। আর বৃষ্টি না হলে সবুজ বনভূমি এবং শস্যক্ষেত্রও দেখা যেতনা।
  • ফলে পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্বও থাকতােনা এবং চাদের মতােই এ পৃথিবী মরুময় হয়ে পড়তাে।
  • বায়ুমণ্ডলকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেই শব্দ তরঙ্গ স্থানান্তরিত হয়। অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলেই শব্দতরঙ্গ চলাচল করতে পারে। আবার এ বায়ুমণ্ডলের আয়নস্তরে বাধাপেয়েই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে পাঠানাে বেতারতরঙ্গ পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।
  • বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর থাকার ফলেই সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর UV রশ্মি বাধাগ্রস্ত হয় এবং পৃথিবীতে আসতে পারেনা বলে আমাদের ক্ষতি করতে পারে না।
  • বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর জন্য একটি রক্ষা কবচ। কারণ মহাশূন্য থেকে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড বায়ুমণ্ডলের মেসোমণ্ডলে সংঘর্ষিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়, মাটিতে পড়ে প্রাণহানি বা পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে না।

Post a Comment

0Comments
Post a Comment (0)